লালমনিরহাটে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের অঙ্গীকার 


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১২:২৩ এএম
লালমনিরহাটে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের অঙ্গীকার 

জেলায় আজ ‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’ শীর্ষক স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে প্রার্থীদের অংশগ্রহণে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

শনিবার সকাল ১০টায় শহরের রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’ -এর জেলা কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

জেলা সুজন-এর সভাপতি আমিনুল হায়াত মুকুলের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুজন জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও গেরিলা লিডার ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজনের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী রাজেশ দে।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট -৩ (সদর) সংসদীয় আসনের ছয়জন প্রার্থী অংশ নিয়ে সরাসরি ভোটারদের মুখোমুখি হন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী আয়োজনে প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারা ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। একই সঙ্গে তারা পরস্পরের হাত উঁচু করে ধরে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেন।

এ অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ক্রমানুসারে প্রার্থীরা বক্তব্য প্রদান করেন। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহের জানান, নির্বাচিত হলে তিনি মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার দেবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল সুবিধাসম্পন্ন স্মার্ট স্কুল এবং কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। 

পাশাপাশি কৃষিপ্রধান দেশের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধান, ভুট্টা, আলু ও সবজিসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে ‘কৃষক বাজার’ স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম সরাসরি পেতে পারেন।

বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু জানান, তিনি ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গড়ার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাদক, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ সহ ১৩টি সামাজিক অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

সামাজিক শান্তি ছাড়া উন্নয়ন অর্থবহ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে লালমনিরহাটকে একটি আধুনিক ও শান্তিপূর্ণ শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাহিদ হাসান বলেন, রাজনীতি শুধু নির্বাচন বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি অতীতে তিস্তা ব্যারেজ, নীলফামারীর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়নের উদাহরণ তুলে ধরেন।  

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মধুসূদন রায় মধু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি নির্বাচিত হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীকের প্রার্থী দীপক কুমার রায় বলেন, লালমনিরহাটসহ রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ কমিশন গঠন এবং জাতীয় বাজেটে এ অঞ্চলের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তার দল ভূমিকা রাখবে।

ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, লালমনিরহাটের উন্নয়নের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং মাদক ও চোরাচালান দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বক্তব্য পর্ব শেষে উপস্থিত ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রার্থীকে চারটি করে প্রশ্ন করা হলে তারা সেসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। 
অনুষ্ঠানে একপর্যায়ে প্রার্থীদের স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা পাঠ করে শোনানো হয় এবং সুজন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লাডলা ভোটারদের শপথবাক্য পাঠ করান।

ব্যতিক্রমী এ আয়োজন দেখতে ও প্রার্থীদের বক্তব্য শুনতে রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চ এলাকায় সাধারণ মানুষের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
 

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!